1. durjoybangla.com.bd@gmail.com : durjoybangla.com.bd :
ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণ হলেই পানি বাড়ে নেত্রকোনায়
শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ১২:৩৩ অপরাহ্ন

ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণ হলেই পানি বাড়ে নেত্রকোনায়

  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুলাই, ২০২৪
  • ২২৬ বার পঠিত
ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণ হলেই পানি বাড়ে নেত্রকোনায়
ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণ হলেই পানি বাড়ে নেত্রকোনায়

ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণ হলেই পাহাড়ি ঢলে নেত্রকোণার আন্তঃ সীমান্ত নদ-নদীসহ হাওরাঞ্চলের পানি বেড়ে যায়। আর এ ঢল টানা কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে দেখা দেয় বন্যা। দীর্ঘ বছর ধরে এমনটিই হয়ে আসছে। এ অবস্থায় আন্তঃ সীমান্ত নদী প্রণালী সক্রিয়করণের দাবি স্থানীয়দের। তবে বন্যা দেখা দেওয়ার কারণ হিসেবে অবাধে নদী দখল, দূষণ, ভরাট, নদ-নদীর গতিপথ পরিবর্তন, নাব্যহীনতা, নদ-নদীর পানি ধারণে অক্ষমতা, অপরিকল্পিত সেতু-কালভার্ট ও বাড়িঘর নির্মাণ এবং নির্বিচারে পরিবেশ ধ্বংস করাকেও দায়ী করছেন তারা।

চলতি বছরে দ্বিতীয় দফা বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে নেত্রকোণা জেলার কিছু অংশ। এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে জেলার কলমাকান্দা উপজেলা। কারণ উজানের পাহাড়ি ঢলের পানি এ উপজেলার আন্তঃ সীমান্ত পাহাড়ি নদী উব্দাখালীতে এসে পড়ে। শুরুতেই এ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়। ঢল অব্যাহত থাকলে পুরো উপজেলা প্লাবিত হয়ে বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় থাকে স্থানীয়রা।

এক সপ্তাহ আগে অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে উব্ধাখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার ৫৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। ফলে কলমাকান্দা উপজেলার অর্ধশতাধিক গ্রাম, গ্রামীণ রাস্তাঘাট, পুকুর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। ঢলের পানির চাপে কলমাকান্দার খারনৈ ও পোগলাসহ কয়েকটি ইউনিয়নের গ্রামীণ রাস্তা ভেঙে নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে রয়েছে হাজারো মানুষ।

এ ছাড়া বর্ষার পানিতে জেলার মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরীসহ নিম্নাঞ্চলের নদ-নদী, খাল-বিল এবং হাওরগুলো ভরপুর থাকায় শত শত পরিবার পানিবন্দি জীবনযাপন করছে। তবে মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত টানা কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে আন্তঃ সীমান্ত নদীগুলোর মাধ্যমে সে পানি হাওরাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা করছে জেলাবাসী।

মেঘালয়ে বৃষ্টিপাত হলেই নেত্রকোণার সোমেশ্বরী, কংস, উব্দাখালী ও ধনু নদীর পানি কখনও বাড়ছে, আবার সেখানে বৃষ্টিপাত না হলে তা কমছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সারওয়ার জাহান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, গতকাল সোমবার বেলা ৩টায় জেলার সোমেশ্বরী নদীর বিজয়পুর ও দুর্গাপুর, কংস নদের পানি জারিয়া পয়েন্টে কমছিল এবং তা বিপদসীমার নিচে রয়েছে। তবে উব্দাখালী নদীর পানি কলমাকান্দা পয়েন্টে কমলেও বিপদসীমার ১৯ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। এ ছাড়া জেলার ধনু নদের পানি খালিয়াজুরী পয়েন্টে স্থিতিশীল ও বিপদসীমার নিচে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

সারওয়ার জাহান বলেন, ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাত হলেই উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে উব্দাখালী নদীসহ জেলার সবকটি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। অবশ্য প্রতি বর্ষা মৌসুমে এমন পানি হয়। এটা স্বাভাবিক পানি। কিন্তু মেঘালয়ে অতি বর্ষণ হলে ঢল নেমে আসায় এখানে পানি বেড়ে গিয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী অহিদুর রহমান বলেন, নেত্রকোণায় পাহাড়ি ঢলের কারণে প্রতি বছর যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, এটা কৃত্রিম বন্যা। এটা প্রতিরোধ করতে হলে আন্তঃসীমান্ত নদী প্রণালীকে সক্রিয় রাখতে হবে। এ ছাড়া আন্তঃ সীমান্ত নদীগুলোর সঙ্গে যুক্ত উপনদী, শাখা নদী ও হাওরে সংযুক্ত খালগুলোর পানিপ্রবাহও সচল রাখতে হবে। তাহলেই এ কৃত্রিম বন্যা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আবুল কালাম আল আজাদ বলেন, ময়মনসিংহ অঞ্চলের মাতৃ নদী হলো ব্রহ্মপুত্র। বর্তমানে ব্রহ্মপুত্রের অবস্থা বেহাল। এ ছাড়া এ অঞ্চলের অন্যান্য যেসব নদ-নদী, শাখা নদী, খাল-বিল ও জলাধার রয়েছে, সেগুলোও ভরাট, দখল-দূষণসহ সরকারের অপরিকল্পিত উন্নয়নে মৃতপ্রায়। তাই প্রতি বছর নেত্রকোণাসহ এ অঞ্চলে মনুষ্য সৃষ্ট বন্যা দেখা দিচ্ছে। তা থেকে রেহাই পেতে হলে প্রকৃতিকে প্রকৃত রাখতে হবে। নদ-নদী, খাল-বিলসহ মুক্ত জলাশয়গুলোর পানিপ্রবাহ সচল রাখতে হবে।

এ নিয়ে কথা হলে জেলা প্রশাসক শাহেদ পারভেজ বলেন, আমরা সব সময় জেলার বন্যা পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজ-খবর রাখছি। নদ-নদীগুলোর পানি কমে যাচ্ছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা নিয়ে আমরা প্রস্তুত আছি। প্রয়োজন অনুযায়ী এসব ত্রাণসামগ্রী, যেমন- শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য, গোখাদ্য বিতরণ করা হচ্ছে। তবে মেঘালয়ের ঢল বন্ধ থাকলে দ্রুত অবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেসব কারণে নেত্রকোণায় প্রতি বছর এমন বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কে আমরা স্টাডি করছি। স্টাডি শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হবে।

আরও পড়ুনঃ ইউএনওর ছোঁয়ায় মদন উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর নান্দনিক রূপে সজ্জিত

সেয়ার করুন:
এই জাতীয় আরও সংবাদ
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত || দুর্জয় বাংলা
Theme Customized By durjoy bangla