1. durjoybangla.com.bd@gmail.com : durjoybangla.com.bd :
বন্য প্রাণী রক্ষায় তারুণ্যের সংগঠন
শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ১০:০৫ পূর্বাহ্ন

বন্য প্রাণী রক্ষায় তারুণ্যের সংগঠন

  • প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুলাই, ২০২৪
  • ২৯০ বার পঠিত
বন্য প্রাণী রক্ষায় তারুণ্যের সংগঠন
বন্য প্রাণী রক্ষায় তারুণ্যের সংগঠন

নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলা। ভারতীয় সীমান্তবর্তী এ উপজেলার একটি গ্রাম রানীখং। ২০২০ সালে এ গ্রামের বাসিন্দারা লোকালয়ে চলে আসা ১৫-১৬ ফুট লম্বা একটি অজগর পিটিয়ে হত্যা করে। সাপটিকে পিটিয়ে মারার ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে তা দেখে খুবই কষ্ট পান দুর্গাপুর পৌরশহরের তরুণ রিফাত আহমেদ রাসেল। তিনি চিন্তা করেন, এসব বন্য প্রাণী রক্ষা এবং প্রাণীগুলো নিধন না করতে এলাকার লোকজনকে সচেতন করতে হবে।

যেমন চিন্তা তেমন কাজ। ২০২০ সালে বিরল ও বিপন্ন বন্য প্রাণী রক্ষার লক্ষ্যে স্থানীয় আরও ২০ জন তরুণকে নিয়ে গড়ে তোলেন ‘সেভ দ্য অ্যানিমেলস অব সুসং’ নামে একটি বন্য প্রাণী রক্ষায় তারুণ্যের সংগঠন। গঠন করেন রেসকিউ টিম। তারপর শুরু করেন বন থেকে লোকালয়ে চলে আসা অজগর, বানর, বনরুই, প্যাঁচা, মায়াহরিণসহ নানা প্রজাতির বন্য প্রাণী উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সেগুলো বনে অবমুক্ত করার কাজ।

২০২০ থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত সংগঠনটির কর্মীরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৫১টি অভিযান পরিচালনা করে বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির ৫১টি বন্য প্রাণী জীবিত উদ্ধার করে বনে অবমুক্ত করেছেন বলে জানান সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রিফাত আহমেদ রাসেল।

তিনি বলেন, ‘আমরা ২১ জন তরুণ মিলে এ সংগঠনের কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। সদস্য এখনও ২১ জনই আছেন। তবে এর মধ্যে বর্তমানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন ১০ জন। এ পর্যন্ত আমরা ১৯টি অজগর, ১৩টি লজ্জাবতী বানর, ১টি মায়াহরিণ, ১টি মহাবিপন্ন প্রজাতির বনরুই, ৬টি গন্ধগোকুলের ছানা, ১টি সন্ধি কাছিম, ১টি ফেরেট ব্রেজার, ৬টি বক, ২টি গ্রিন পিট ভাইপার, ১টি গিরগিটিসহ মোট ৫১টি বন্য প্রাণী উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট বন বিভাগের সহায়তায় বনে অবমুক্ত করতে পেরেছি।’

রিফাত আহমেদ রাসেল আরও বলেন, ‘নির্বিচার উজাড় হচ্ছে বনজঙ্গল। যে কারণে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হারাচ্ছে বন্য প্রাণী। নিরাপদ আবাসস্থলের অভাবে দিনদিনই বিলুপ্ত হচ্ছে নানা প্রজাতির বন্য প্রাণী। তাই সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলে প্রায় সময়ই বিভিন্ন বন্য প্রাণীর দেখা মেলে। নির্বিচার বন উজাড় ও খাদ্যসংকটের কারণে বন্য প্রাণী নিরাপদ আবাসস্থল হারিয়ে লোকালয়ে চলে আসে। তাই পরিবেশের ভারসাম্য ও বন্য প্রাণী রক্ষায় সবাইকে আরও সচেতন হওয়া জরুরি। তা না হলে এর বিরূপ প্রভাব মানুষকেই ভোগ করতে হবে।’

সেভ দ্য অ্যানিমেলস অব সুসংয়ের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুল হক সুমন বলেন, ‘আমরা সমাজমাধ্যমের সূত্র ধরে জানতে পারি সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রামগুলোয় প্রায় সময়ই মহাবিপন্ন ও দুর্লভ প্রজাতির বন্য প্রাণী আটক হওয়ার সংবাদ। পরে সেগুলো আমরা উদ্ধার করি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। কখনও কখনও বন্য প্রাণী উদ্ধারে আমাদের নানানরকম কৌশল অবলম্বন করতে হয় এবং প্রয়োজনে স্থানীয় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে হয়।’

বন বিভাগের দুর্গাপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা দেওয়ান আলী বলেন, ‘দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি অঞ্চলে প্রায় সময়ই বিভিন্ন বন্য প্রাণী উদ্ধার হচ্ছে। পরিবেশ ও বন্য প্রাণী রক্ষায় কাজ করে আসা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেভ দ্য অ্যানিমেলস অব সুসংয়ের স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন বিরল প্রজাতির বন্য প্রাণী উদ্ধার করে আমাদের কাছে নিয়ে আসেন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আমরা সেগুলো বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের কর্মকর্তাদের পরামর্শক্রমে বনে অবমুক্ত করি।’

বন্য প্রাণী অপরাধ দমন ইউনিটের জুনিয়র ওয়াল্ডলাইভ স্কাউট কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বিরল, বিপন্ন ও বিলুপ্ত প্রায় বন্য প্রাণীগুলো উদ্ধার করে আমাদের হস্তান্তর করায় আমরা ধন্যবাদ জানাই সেভ দ্য অ্যানিমেলস অব সুসংয়ের স্বেচ্ছাসেবীদের। বিভিন্ন সময়ে বন্য প্রাণীরা ভারত থেকে নেত্রকোণার দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার লোকালয়ে চলে আসে। সাধারণ লোকজন সেগুলো মেরে ফেলে। কেউ কেউ আটকে রাখে। যা ঠিক নয়।’

আরও পড়ুনঃ ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণ হলেই পানি বাড়ে নেত্রকোনায়

সেয়ার করুন:
এই জাতীয় আরও সংবাদ
© ২০২৪ সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত || দুর্জয় বাংলা
Theme Customized By durjoy bangla