২৯ মে বুধবার নিহত আব্দুল কাইয়ুমের চাচাতো ভাই আছাব আলী অরফে পশর আলী বাদী হয়ে সাবেক ইউপি মেম্বার আব্দুল লতিফকে প্রধান আসামী করে ২৯ জনের নাম এজাহারে উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১০ কে আসামী করে এ মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ এই হত্যা ঘটনার সাথে জড়িত আলামিন ও আবু তাহের সঞ্জুকে মামলা রেকর্ডের আগেই গ্রেফতার করে নেত্রকোনা আদালতে পাঠিয়েছে। সঞ্জু ও আলামিন কারাগারেই রয়েছেন।
কান্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুব আলম বাবুলের উদ্যোগে প্রায় দুই মাস আগে গ্রাম সালিশের মাধ্যমে বিষ্ণপুর গ্রামে বসে দুই গ্রুপের বিরোধ আনুষ্ঠানিক ভাবে মিটমাট করা হয়। কিন্তু আনুষ্ঠানিক মিটমাট হলেও ভেতরে ভেতরে তাদের মধ্যে দন্ধ লেগেই ছিল।
২৫ মে বিকেলে দুই গ্রুপের যুবক ছেলেরা বাড়ির পাশের জমিতে ফুটবল খেলতে যায়। সেখানে লতিফ গ্রুপের লোকেরা তাদেরকে ফুটবল খেলতে বাধা দেয়। এসময় তারা বলেন যদি খেলতে গিয়ে বল যাতে লতিফদের জমিতে গিয়ে না পড়ে সে বিষয়ে সতর্ক করা হয়। ফুটবল খেলায় বাধার বিষয়টি লতিফের প্রতিপক্ষের লোকেরা মুহুর্তেই জেনে যায়।
এতে দুই গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়ে এক পর্যায়ে লাঠি, বল্লম ও বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র নিয়ে শত শত লোক সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘন্টা ব্যাপী সংঘর্ষে কৃষক আব্দুল কাইয়ুম সহ অর্ধ শতাধিক লোক আহত হয়।
আশংকা জনক অবস্থায় আব্দুল কাইয়ুমকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে কেন্দুয়া উপজেলা হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।
পুলিশ জানায়, আব্দুল কাইয়ুমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে প্রতিপক্ষের লোকদের উপর হাসপাতাল প্রাঙ্গনে হামলা চালানোর প্রস্ততি ও বাড়ি ঘরেও শুরু হয় লুটপাট ও ভাংচুর।
কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: এনামুল হক পিপিএম বলেন, হাসপাতালে সংঘর্ষ ও ঘরবাড়ি লুটপাটের প্রাক্কালে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের যৌথ অভিযানে ৩২ জনকে আটক করা হয়।
পরে যাচাই বাচাই করে মুচালেকা নিয়ে ৩০ জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়। দুই জনকে পাঠানো হয় জেল হাজতে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মো: আলীমুল রাজী বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন আছে। সকল আসামী গ্রেপ্তারের চেষ্ঠা চলছে।
আরও পড়ুন : র্যাবের নতুন ডিজি ব্যারিস্টার মো: হারুন অর রশিদ
সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা/কে/নেত্র